Lockdown TimeLifestyle 

অতিমারীর আবহে মানুষের জীবিকা বদল

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : পেশা বদলে ভিন্ন আয়ের সংস্থান করছেন অনেকেই। করোনা আবহে বদলে দিয়েছে পরিস্থিতি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পেশা বদল করেছেন বহু মানুষ। কর্মসংস্থান হারিয়ে আজকাল রাস্তায় যাতায়াতের পথে অনেক মানুষ তাঁদের বাড়ির সামনে চায়ের দোকান ও সব্জি নিয়ে বসছেন। পাশাপাশি নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যও এক্ষেত্রে রয়েছে। যেমন- রুটি, পরোটা, লুচি ও কচুরি প্রভৃতি তৈরি করতেও দেখা যায় অনেক পরিবারকে। এইভাবে অনেকেই ভিন্ন পদ্ধতিতে রোজগার করছেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। লকডাউন পর্বে মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে লকডাউনের জেরে কর্মচ্যুত হয়ে বহু মানুষ পেশা বদলে ফেলেছেন। করোনা মহামারীর প্রভাবে লকডাউন ঘোষণার পর বহু মানুষের জীবন-জীবিকার উপর আঘাত এসেছে।

যেসব মানুষ প্রতিদিন উপার্জনের তাগিদে ঘর থেকে বের হতেন তাঁদের অনেকেরই যাতায়াতের মাধ্যম ছিল ট্রেন, বাস অথবা অন্যান্য গাড়ি। সেইসব গাড়ি লকডাউন পর্বে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকার জন্য তাঁদের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী সহ কাঁচা শাক সব্জি বিক্রয়কারীদেরও শহরে আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তাঁরা খুবই অসুবিধার মধ্যে পড়েন। কর্মচারীর অভাবেও বা আয় কমে যাওয়ায় বহু বেসরকারি অফিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। আয় না হওয়ায় কর্মচারীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হত না। এর জেরে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন।

এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বেকার হয়ে যাওয়া মানুষেরা বিকল্প উপায়ে উপার্জনের চেষ্টা শুরু করেন। আবার বেশ কিছু শিক্ষিত কর্মহীন মানুষও কোনও উপায় না পেয়ে নিজের হাতে তৈরি নানা রকমের খাদ্যদ্রব্য তৈরি করে বিক্রি করা শুরু করেন। দেখা যায়, তেলেভাজা কচুরি নিয়েও অনেকেই বিক্রি করতে বসে গিয়েছেন। পাশাপাশি অনেকেই কাঁচা আনাজ শাক-সব্জি বেচতেও কুন্ঠিত হননি। এই সঙ্কটকালে অনেকেই আয়ের বিকল্প পথ বেছে নিয়েছেন। এই সঙ্কটের আবহে কর্মচ্যুত মানুষেরা হতাশায় না ভুগে বা বসে না থেকে নিজেদের আয়ের বিকল্প পথের সন্ধান করেছেন। অতিমারীর সময়ে প্রমাণিত হয়েছে- বিচলিত না হয়ে মানুষ এইভাবেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

Related posts

Leave a Comment